মেয়ে সুন্দরী গোপনে ডিএনএ টেস্ট করলেন বাবা
আপনার প্রস্তাবিত বিষয়টি একটি সংবেদনশীল এবং গভীর মানবিক গল্প তৈরির সুযোগ দেয়। নিচে আমি একটি ১,০০০ শব্দের গল্পের কাঠামো উপস্থাপন করছি যেখানে একজন বাবা গোপনে তার মেয়ের ডিএনএ পরীক্ষা করানোর সিদ্ধান্ত নেন এবং এর পরবর্তী প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা হয়।
মেয়ে সুন্দরী: গোপনে ডিএনএ টেস্ট করলেন বাবা
রাতের আকাশটা ঝকঝকে। বাড়ির বারান্দায় দাঁড়িয়ে রমেশ বসু চাঁদের দিকে তাকিয়ে ভাবছিলেন, তার জীবনে এত জটিল প্রশ্ন কখনো আসেনি। কয়েক মাস আগে পর্যন্ত তার জীবন ছিল নির্ঝঞ্ঝাট, কিন্তু এখন তার মন এক অদ্ভুত দ্বিধায় ভুগছে।
তার মেয়ে, সুমনা, পরিবারের গর্ব। স্কুলে মেধাবী, নাচে পটু, এবং সর্বোপরি তার সৌন্দর্য সবাইকে মুগ্ধ করে। আশপাশের মানুষ প্রায়ই বলে, “সুমনা যেন কারও মেয়ে নয়, স্বর্গ থেকে নেমে আসা অপ্সরা।”
কিন্তু কয়েক মাস আগে একটি ঘটনাই রমেশের জীবনের শান্তি কেড়ে নিল। এক পারিবারিক অনুষ্ঠানে দূরসম্পর্কের এক আত্মীয় মন্তব্য করল, “সুমনা তোমার মেয়ে? কিন্তু দেখতে তো তোমাদের মতো লাগে না। খুবই আলাদা!”
এই কথা রমেশের মনে গেঁথে যায়। তিনি এসব কথা পাত্তা দিতে চাননি, কিন্তু মনের ভেতর সন্দেহের বীজ রোপিত হলো। স্ত্রী মাধবীর দিকে তাকিয়ে তিনি বারবার ভাবতেন, “সত্যি কি সুমনা আমার মেয়ে?”
সন্দেহের জন্ম
রমেশের আর্থিক অবস্থা ভালো। তিনি একজন সরকারি প্রকৌশলী। জীবনযাপন ছিলো নিয়মমাফিক। কিন্তু সন্দেহ মানুষকে অন্যরকম করে তোলে। রমেশ বুঝতে পারছিলেন, তার আচরণ ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে।
একদিন তিনি সাহস করে স্ত্রী মাধবীর কাছে এ প্রসঙ্গে কিছু বলতে চাইলেন। কিন্তু মাধবীর শান্ত ও বিশ্বাসী মুখ দেখে তিনি থেমে গেলেন। তার মনে হলো, যদি সত্যিই এ সন্দেহ ভিত্তিহীন হয়, তবে এমন কথা বলে সংসারে ঝড় তুলতে চান না।
গোপনে সিদ্ধান্ত
রমেশ একটি সিদ্ধান্ত নিলেন। তিনি গোপনে সুমনার ডিএনএ পরীক্ষা করাবেন।
তিনি একটি বেসরকারি ডিএনএ পরীক্ষাগারের সঙ্গে যোগাযোগ করলেন। পরীক্ষার জন্য সুমনার চুল বা লালা সংগ্রহ করতে হবে। রমেশের হাতে তেমন কোনো সময় ছিল না, তাই তিনি একদিন সুমনার চিরুনির থেকে কয়েকটি চুল সরিয়ে নিলেন।
পরীক্ষার রিপোর্ট আসতে প্রায় দুই সপ্তাহ সময় লাগবে বলে জানানো হলো। সেই দুই সপ্তাহ রমেশের জন্য অসহ্য হয়ে উঠল।
রিপোর্টের অপেক্ষা
এই সময়টা রমেশকে ভেতরে ভেতরে গ্রাস করতে লাগল। তিনি রাতের পর রাত ঘুমাতে পারতেন না। মাধবী লক্ষ্য করলেন যে রমেশ কিছুটা অস্বাভাবিক আচরণ করছেন।
“কী হয়েছে তোমার? অফিসে চাপ বেশি?” মাধবী জিজ্ঞাসা করলেন।
“না, তেমন কিছু না,” রমেশ হেসে এড়িয়ে গেলেন।
কিন্তু মনের মধ্যে অস্থিরতা তাকে কুরে কুরে খাচ্ছিল।
রিপোর্টের ফলাফল
অবশেষে সেই দিন এলো। ডাকযোগে পরীক্ষার ফলাফল এল। রমেশ কাগজ খুললেন এবং তার মাথা ঘুরে গেল। রিপোর্টে স্পষ্ট বলা আছে, সুমনার ডিএনএ তার সঙ্গে মেলে না।
রমেশ বুঝতে পারলেন, যে সত্য তিনি এতদিন অস্বীকার করে আসছিলেন, সেটি এখন প্রমাণিত হলো। সুমনা তার জৈবিক মেয়ে নয়।
কী করবেন তিনি?
এই ফলাফল দেখে রমেশের মনে হল যেন পৃথিবী তার পায়ের নিচ থেকে সরে গেছে। তিনি কী করবেন? মাধবীর সঙ্গে কথা বলবেন? নাকি সবকিছু চেপে যাবেন?
তারপর রমেশ ভাবলেন, সুমনা তার কাছে কী? সে তো তার মেয়ে। এতদিন ধরে তিনি তাকে ভালোবেসেছেন, তার ভবিষ্যতের জন্য স্বপ্ন দেখেছেন। জৈবিক সম্পর্ক কি এই ভালোবাসা ও দায়িত্বকে মিথ্যা প্রমাণিত করতে পারে?
মাধবীর সঙ্গে মুখোমুখি
কয়েকদিন পর রমেশ আর স্থির থাকতে পারলেন না। তিনি মাধবীর সঙ্গে কথা বলার সিদ্ধান্ত নিলেন।
“মাধবী, তোমার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথা বলার আছে,” তিনি বললেন।
মাধবী শান্তভাবে শুনলেন।
রমেশ ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট মাধবীর সামনে রাখলেন। মাধবী হতবাক হয়ে গেলেন। কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর তিনি বললেন, “আমি ভেবেছিলাম তুমি আমাকে বিশ্বাস করো। কিন্তু তুমি আমাকে সন্দেহ করেছ।”
“তাহলে সত্যিটা কী?” রমেশ জিজ্ঞাসা করলেন।
মাধবী কাঁদতে কাঁদতে বললেন, “সুমনা আমাদেরই মেয়ে। জন্মের সময় হাসপাতালে ভুলবশত অন্য এক নবজাতকের সঙ্গে তার পরিচয় বদলে যায়। অনেক পরে আমি বিষয়টি জানতে পারি, কিন্তু তখন তোমাকে বলার সাহস পাইনি। কারণ আমি জানতাম তুমি সুমনাকে কতটা ভালোবাসো। আমি ভেবেছিলাম, এই সত্যটি জানার প্রয়োজন নেই।”
পুনর্মূল্যায়ন
রমেশ স্তব্ধ হয়ে গেলেন। তার মনে হলো, মাধবী হয়তো ভুল করেননি। সুমনার সঙ্গে তার ভালোবাসার সম্পর্ক জৈবিক সূত্র ছাড়াও শক্তিশালী।
পরিণতি
রমেশ সিদ্ধান্ত নিলেন, তিনি আর কোনো প্রশ্ন তুলবেন না। সুমনা তার মেয়ে, এবং এটি কখনো বদলাবে না।
এই ঘটনার পর রমেশ ও মাধবীর মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর হলো। আর সুমনা? সে তার বাবা-মায়ের ভালোবাসার আঙিনায় নির্বিঘ্নে বেড়ে উঠল।
0 Comments