Advertisement

Ad code

২৫ টি নজরুল সঙ্গীতের তালিকা

 ২৫ টি নজরুল সঙ্গীতের তালিকা



1

রুম ঝুম ঝুম ঝুম রুম ঝুম ঝুম

খেজুর পাতার নুপুর বাজায়ে কে যায় ।

ওড়না তাহার ঘূর্ণী হাওয়ায় দোলে

কুসুম ছড়ায় পথের বালুকায় ।।


তার ভুরুর ধনুক বেঁকে ওঠে তনুর তলোয়ার

সে যেতে যেতে ছড়ায় পথে পাথর কুচির হার ।

তার ডালিম ফুলের ডালি

গোলাপ গালের লালি

ঈদের চাঁদ – ও চায় ।।


আরবী ঘোড়ার সওয়ার বাদশাজাদা বুঝি

সাহারাতে ফেরে কোন মরীচিকায় খুঁজি ।

কত তরুণ মুছাফির পথ হারালো হায় !

কত বনের হরিণ মোরে তারি রূপ তৃষায় ।



আমার আপনার চেয়ে আপন যে জন

খুঁজি তারে আমি আপনার ,

আমি শুনি যেন তার চরণের ধ্বনি

আমারি তিয়াসী বাসনায় ।।


আমারই মনের তৃষিত আকাশে

কাঁদে সে চাতক আকুল পিয়াসে ,

কভু সে চকোর সুধা – চোর আসে

নিশীথে স্বপনে জোছনায় ।।


আমার মনের পিয়াল তমালে

হেরি তারে স্নেহ-মেঘ-শ্যাম ,

অশনি-আলোকে হেরি তারে

থির-বিজুলি-উজল অভিরাম ।।


আমারই রচিত কাননে বসিয়া

পরানু পিয়ারে মালিকা রচিয়া ,

সে মালা সহসা দেখিনু জাগিয়া

আপনারি গলে দোলে হায় ।।


মেঘলা নিশি ভোরে মন যে কেমন করে

তারি তরে গো মেঘ-বরণ যার কেশ।

বুঝি তাহারি লাগি’ হয়েছে বৈরাগী

গেরুয়া রাঙা গিরিমাটির দেশ।।

মৌরি ফুলের ক্ষেতে, মৌমাছি ওঠে মেতে

এলিয়েছিল কেশ কি গো তার এই পথে সে যেতে।

তার ডাগর চোখের ঝিলিক লেগে রাত হয়েছে শেষ (গো)।।

শিরিষ পাতায় ঝিরিঝিরি, বাজে নূপুর তারি

সোনাল ডালে দোলে তাহার কামরাঙা রঙ শাড়ি।

হয়েছি মন-ভিখারি কোন্‌ শিকারি আমি

উঠি পাহাড় চূড়ায়, ঝর্না জলে নামি

কালো পাথর দেখে জাগে কার চোখের আবেশ গো।।


4. 

সুরে ও বাণীর মালা দিয়ে

তুমি আমারে ছুঁইয়াছিলে।

অনুরাগ-কুমকুম দিলে দেহে মনে

বুকে প্রেম কেন নাহি দিলে?


বাঁশি বাজাইয়া লুকায়ে তুমি কোথায়?

যে ফুল ফুটালে সে ফুল শুকায়ে যায়

কি যেন হারায়ে প্রাণ করে হায় হায়

কি যে চেয়েছিলে কেন কেড়ে নাহি নিলে।


জড়ায়ে ধরিয়া কেন ফিরে গেলে

বল কোন অভিমানে?

কেন জাগে নাকো আর সে

মাধুরী রস আনন্দ প্রাণে?


5.

অরুণ-কান্তি কে গো যোগী ভিখারি।

নীরবে হেসে দাঁড়াইলে এসে

প্রখর তেজ তব নেহারিতে নারি ॥

রাস-বিলাসিনী আমি আহিরিণী

শ্যামল কিশোর রূপ শুধু চিনি,

অম্বরে হেরি আজ একি জ্যোতিঃপুঞ্জ

হে গিরিজাপতি! কোথা গিরিধারী ॥

সম্বর সম্বর মহিমা তব, হে ব্রজেশ ভৈরব,

আমি ব্রজবালা।

হে শিব সুন্দর, বাঘছাল পরিহর, ধর নটবর-বেশ

পর নীপ-মালা।

নব মেঘ-চন্দনে ঢাকি’ অঙ্গজ্যোতি

প্রিয় হয়ে দেখা দাও ত্রিভুবন-পতি

পার্বতী নহি আমি, আমি শ্রীমতী

বিষাণ ফেলিয়া হও বাঁশরি-ধারী ॥ 



6. 

ওগো বৈশাখী ঝড় লয়ে যাও লয়ে যাও

অবেলায় ঝরা এ মুকুল

লয়ে যাও আমার জীবন

এই পায়ে দলা ফুল।।


ওগো নদীজল লহ আমারে, বিরহের সেই মহাপাথারে

চাঁদের পানে চাহি যে পারাবার

অনন্তকাল কাঁদে বেদনা ব্যাকুল।।


ওরে মেঘ মোরে সেই দেশে রেখে আয়

যে দেশে যায় না শ্যাম মথুরায়

ভরেনা বিষাদ বিষে এ জীবন

যে দেশে ক্ষণিকের ভুল।। 



7. 

আমি চিরতরে দূরে চলে যাব, তবু আমারে দেব না ভুলিতে।

(আমি) বাতাস হইয়া জড়াইব কেশ, বেণি যাবে যবে খুলিতে॥

তোমার সুরের নেশায় যখন

ঝিমাবে আকাশ কাঁদিবে পবন

রোদন হইয়া আসিব তখন তোমার বক্ষে ঝুরিতে॥

আসিবে তোমার পরমোৎসব কত প্রিয়জন কে জানে

মনে পড়ে যাবে – কোন সে ভিখারি পায়নি ভিক্ষা এখানে।

তোমার কুঞ্জ পথে যেতে হায়

চমকি থামিয়া যাবে বেদনায়

দেখিবে, কে যেন মরে মিশে আছে তোমার পথের ধূলিতে।আমি চিরতরে দূরে চলে যাব, তবু আমারে দেব না ভুলিতে।

(আমি) বাতাস হইয়া জড়াইব কেশ, বেণি যাবে যবে খুলিতে॥

তোমার সুরের নেশায় যখন

ঝিমাবে আকাশ কাঁদিবে পবন

রোদন হইয়া আসিব তখন তোমার বক্ষে ঝুরিতে॥

আসিবে তোমার পরমোৎসব কত প্রিয়জন কে জানে

মনে পড়ে যাবে – কোন সে ভিখারি পায়নি ভিক্ষা এখানে।

তোমার কুঞ্জ পথে যেতে হায়

চমকি থামিয়া যাবে বেদনায়

দেখিবে, কে যেন মরে মিশে আছে তোমার পথের ধূলিতে। 


8.

পাষাণের ভাঙালে ঘুম কে তুমি সোনার ছোঁয়ায়।

গলিয়া সুরের তুষার গীত নির্ঝর বয়ে যায়

কে তুমি সোনার ছোঁয়ায়।।


উদাসী বিবাগী মন যাচে আজ বাহুর বাঁধন।।

কত জনমের কাঁদন ও পায়ে লুটাতে চায়।


ওগো তোমার চরণ ছন্দে মোর মুঞ্জরিল গানের মুকুল

তোমার বেণীর বন্ধে গো মরিতে চায় সুরের বকুল

চমকে ওঠে মোর গগণ।ঐ হরিণ চোখের চাওয়ায়।। 


9

চেয়ো না সুনয়না

আর চেয়ো না এ নয়ন পানে ।

জানিতে নাই ক বাকী

সই ও আঁখি কি যাদু জানে ।।


একে ঐ চাউনি বাঁকা

সুর্মা – আঁকা , তায় ডাগর আঁখি ।

বধিতে তায় কেন সাধ

যে মরেছে এ আঁখি – বাণে ।।


কাননে হরিণ কাঁদে

সলিল ফাদে ঝুরছে শফরী,

বাঁকায়ে ভুরুর ধনু

ফুল – অতনু কুসুম শর হানে ।।

 

জ্বলিছে দিবস রাতি

মোমের বাতি রুপের দেওয়ালী ,

নিশিদিন তাই কি জ্বলি

পড়ছে গলি অঝর নয়ানে ।।


মিছে তুই কথার কাঁটায়

সুর বিধে হায় হার গাঁথিস কবি

বিকিয়ে যায় রে মালা

আয় নিরালা আখির দোকানে ।। 


10.

গানঃ উচাটন মন ঘরে রয় না

রাগঃ গারা-খাম্বাজ

তালঃ দাদ্‌রা

সংগীতঃ কাজী নজরুল ইসলাম


উচাটন মন ঘরে রয় না

প্রিয়া মোর ।।

ডাকে পথে বাঁকা তব নয়না

উচাটন মন ঘরে রয় না

প্রিয়া মোর


ত্যাজিয়া লোক-লাজ সুখ-সাজ গৃহ-কাজ ।।

নিজ গৃহে বনবাস সয় না

প্রিয়া মোর ।।

উচাটন মন ঘরে রয় না

প্রিয়া মোর ।।


লইয়া স্মৃতির লেখা

কত আর কাঁদি একা ।।

ফুল গেলে কাঁটা কেন যায় না

প্রিয়া মোর ।।

উচাটন মন ঘরে রয় না

প্রিয়া মোর

উচাটন মন ঘরে রয় না 


11

গানঃ উচাটন মন ঘরে রয় না

রাগঃ গারা-খাম্বাজ

তালঃ দাদ্‌রা

সংগীতঃ কাজী নজরুল ইসলাম


উচাটন মন ঘরে রয় না

প্রিয়া মোর ।।

ডাকে পথে বাঁকা তব নয়না

উচাটন মন ঘরে রয় না

প্রিয়া মোর


ত্যাজিয়া লোক-লাজ সুখ-সাজ গৃহ-কাজ ।।

নিজ গৃহে বনবাস সয় না

প্রিয়া মোর ।।

উচাটন মন ঘরে রয় না

প্রিয়া মোর ।।


লইয়া স্মৃতির লেখা

কত আর কাঁদি একা ।।

ফুল গেলে কাঁটা কেন যায় না

প্রিয়া মোর ।।

উচাটন মন ঘরে রয় না

প্রিয়া মোর

উচাটন মন ঘরে রয় না


12


আলগা করো গো খোঁপার বাঁধন

আলগা করো গো খোঁপার বাঁধন

দিল ওহি মেরা ফঁস্ গয়ি

দিল ওহি মেরা ফঁস্ গয়ি

বিনোদ বেণীর জরীন ফিতায়

বিনোদ বেণীর জরীন ফিতায়

আন্ধা ইশক্ মেরা কস্ গয়ি

আন্ধা ইশক্ মেরা কস্ গয়ি

তোমার কেশের গন্ধে কখন

লুকায়ে আসিলো লোভী আমার মন

তোমার কেশের গন্ধে কখন

লুকায়ে আসিলো লোভী আমার মন

বেহুঁশ হো কর্ গির্ পড়ি হাথ মে

বেহুঁশ হো কর্ গির্ পড়ি হাথ মে

বাজু বন্দ মে বস্ গয়ি

বাজু বন্দ মে বস্ গয়ি

আলগা করো গো খোঁপার বাঁধন

দিল ওহি মেরা ফঁস্ গয়ি

দিল ওহি মেরা ফঁস্ গয়ি

কানের দুলে প্রাণ রাখিলে বিঁধিয়া

আঁখ্ ফিরা দিয়া চোরী কর্ নিন্দিয়া

কানের দুলে প্রাণ রাখিলে বিঁধিয়া

আঁখ্ ফিরা দিয়া চোরী কর্ নিন্দিয়া

দেহের দেউড়িতে বেড়াতে আসিয়া

দেহের দেউড়িতে বেড়াতে আসিয়া

অর নেহিঁ উয়ো ওয়াপস্ গয়ি

অর নেহিঁ উয়ো ওয়াপস্ গয়ি

আলগা করো গো খোঁপার বাঁধন

দিল ওহি মেরা ফঁস্ গয়ি

দিল ওহি মেরা ফঁস্ গয়ি

বিনোদ বেণীর জরীন ফিতায়

আন্ধা ইশক্ মেরা কস্ গয়ি

আন্ধা ইশক্ মেরা কস্ গয়ি

আলগা করো গো খোঁপার বাঁধন

আলগা করো গো খোঁপার বাঁধন

দিল ওহি মেরা ফঁস্ গয়ি

দিল ওহি মেরা ফঁস্ গয়ি

দিল ওহি মেরা ফঁস্ গয়ি

13.


পরদেশী মেঘ যাও রে ফিরে।

বলিও আমার পরদেশী রে।

সে দেশে যবে বাদল ঝরে

কাঁদে নাকি প্রাণ একেলা ঘরে,

বিরহ-ব্যথা নাহি কি সেথা বাজে না বাঁশি নদীর তীরে।।

বাদল-রাতে ডাকিলে ‘পিয়া পিয়া পাপিয়া’,

বেদনায় ভ’রে ওঠে নাকি রে কাহারো হিয়া।

ফোটে যবে ফুল, ওঠে যবে চাঁদ

জাগে না সেথা কি প্রাণে কোন সাধ,

দেয় না কেহ গুরু গঞ্জনা সে দেশে বুঝি কুলবতী রে। 



14


প্রিয় এমন রাত যেন যায় না বৃথাই

পরি চাঁপা ফুলের শাড়ি খয়েরী টিপ,

জাগি বাতায়নে জ্বালি আঁখি প্রদীপ,

মালা চন্দন দিয়ে মোর থালা সাজাই।।

তুমি আসিবে বলে সুদূর অতিথি

জাগে চাঁদের তৃষা লয়ে কৃষ্ণা তিথি,

কভু ঘরে আসি কভু বাহিরে চাই।।

আজি আকাশে বাতাসে কানাকানি,

জাগে বনে বনে নব ফুলের বাণী,

আজি আমার কথা যেন বলিতে পাই।।


15.

ফিরিয়া যদি সে আসে আমার খোঁজে ঝরা গোলাবে।

আনিয়া সমাধি পাশে আমার বিদায় বাণী শোনাবে।।

বলিও তারে এখানে এসে

ডাকে যেন মোর নাম ধ’রে সে,

রবাব যবে কাঁদিবে রমলা সুরের কোমল রেখাবে।।

তৃষিত মরুর ধুসর গগন

যেমন হেরে মেঘের স্বপন,

তেমনি দারুণ তিয়াসা লয়ে কাটিল আমার বিফল জীবন —

একটি ফোঁটা আঁখি–জল ঝরে যেন তার হাতের শরাবে।।


16.

আজো মধুর বাঁশরী বাজে

বাজে – মধুর বাঁশরী বাজে

গোধুলী লগনে বুকের মাঝে ।।

মধুর বাঁশরী বাজে

বাজে – মধুর বাঁশরী বাজে


আজো মনে হয় সহসা কখন

জলে ভরা দু’টি ডাগর নয়ন ।।

ক্ষনিকের ভুলে সেই চাঁপা ফুলে

ফেলে ছুটে যাওয়া লাজে

আজো মধুর বাঁশরী বাজে

বাজে – মধুর বাঁশরী বাজে


হারানো দিন বুঝি আসিবে না ফিরে

মন কাঁদে কেন স্মৃতির তীরে ।

ম ন কাঁ দে ।। কে-ন

হারানো দিন বুঝি আসিবে না ফিরে

মন কাঁদে কেন স্মৃতির তীরে ।


তবু মাঝে মাঝে আশা জাগে কেন

আমি ভুলিয়াছি ভুলেনি সে যেন

গোমতীর তীরে পাতার কুটিরে

আজো সে পথ চাহে সাঝে


আজো মধুর বাঁশরী বাজে

বাজে – মধুর বাঁশরী বাজে

মধুর বাঁশরী বাজে


17

হে গোবিন্দ রাখ চরণে।

মোরা তব চরণে শরণাগত আশ্রয় দাও আশ্রিত জনে হে॥

গঙ্গা ঝরে যে শ্রীচরণ বেয়ে

কেন দুখ পাই সে চরণ চেয়ে

এ ত্রিতাপ জ্বালা হর হে শ্রীহরি, চাহ করুণা সিক্ত নয়নে॥

হরি ভিক্ষা চাহিলে মানুষ নাহি ফিরায়

তোমারি দুয়ারে হাত পাতিল যে, ফিরাবে কি তুমি তায়।

হরি সব তরী ডুবে যায়

তোমার চরণ তরী ত’ ডোবে না হায়,

তব চরণ ধরিয়া ডুবে মরি যদি রবে কলঙ্ক নিখিল ভুবনে॥


18.

ব্রজ–গোপী খেলে হোরী

খেলে আনন্দ নবঘন শ্যাম সাথে।

রাঙা অধরে ঝরে হাসির কুম্‌কুম্‌

অনুরাগ–আবীর নয়ন–পাতে।।

পিরীতি–ফাগ মাখা গোরীর সঙ্গে

হোরি খেলে হরি উন্মাদ রঙ্গে।

বসন্তে এ কোন্ কিশোর দুরন্ত

রাধারে জিনিতে এলো পিচ্‌কারী হাতে।।

গোপীনীরা হানে অপাঙ্গ খর শর ভ্রুকুটি ভঙ্গ

অনঙ্গ আবেশে জর জর থর থর শ্যামের অঙ্গ।

শ্যামল তনুতে হরিত কুঞ্জে

অশোক ফুটেছে যেন পুঞ্জে পুঞ্জে

রঙ–পিয়াসি মন ভ্রমর গুঞ্জে

ঢালো আরো ঢালো রঙ প্রেম–যমুনাতে।।



19.


এলো নন্দেরও নন্দন নব ঘনশ্যাম

এলো নন্দেরও নন্দন নব ঘনশ্যাম,

এলো যশোদা নয়নমণি নয়নাভিরাম,

এলো যশোদা নয়নমণি নয়নাভিরাম।


প্রেম রাধারমণ নব বঙ্কিমধাম

চির রাখাল গোকুলে এলো গোলক ত্যাজি,

কৃষ্ণজী, কৃষ্ণজী, কৃষ্ণজী, কৃষ্ণজী

কৃষ্ণজী, কৃষ্ণজী, কৃষ্ণজী, কৃষ্ণজী।। 


ভয় ত্রাতা এলো কারা ক্লেশ নাশি

কাজল নয়নে এলো উজলশশী,

ভয় ত্রাতা এলো কারা ক্লেশ নাশি

কাজল নয়নে এলো উজলশশী,

মুছাতে বেদন ব্যথা তিমির হারি

মুছাতে বেদন ব্যথা তিমির হারি,

ওই বিজলি ঝলকে এলো ঘন গরজি,

কৃষ্ণজী, কৃষ্ণজী, কৃষ্ণজী, কৃষ্ণজী

কৃষ্ণজী, কৃষ্ণজী, কৃষ্ণজী, কৃষ্ণজী।। 


হে বিরাট তব মঙ্গল আঁখিতলে

কত পুষ্প ফোটে প্রেম অশ্রুজলে,

হে বিরাট তব মঙ্গল আঁখিতলে

কত পুষ্প ফোটে প্রেম অশ্রুজলে,

অরবিন্দ পদে আর কিছু না চাহি

অরবিন্দ পদে আর কিছু না চাহি,

যেন গোপন প্রেমে মন রহে মজি

কৃষ্ণজী, কৃষ্ণজী, কৃষ্ণজী, কৃষ্ণজী

কৃষ্ণজী, কৃষ্ণজী, কৃষ্ণজী, কৃষ্ণজী।। 



21


ও.. ও.. ও..
গোপাল কে দড়ি বেঁধে রাখিস নে
ছেড়ে দে মা জননী,
গোপাল কে দড়ি বেঁধে রাখিস নে
ছেড়ে দে মা জননী,
মাখন চুরি করুক গোপাল
মাখন চুরি করুক গোপাল,
চুরি করে খাক্ ননী ..
গোপাল কে দড়ি বেঁধে রাখিস নে
ছেড়ে দে মা জননী ..
ছেড়ে দে মা জননী।। 

ও যশোদা মা .. 
ও যশোদা মা ..
ওর ছেলে বেলা চলে গেলে 
আর তো পাবিনা ..
আর তো পাবি না,
ওর ছেলে বেলা চলে গেলে 
আর তো পাবিনা,
দইয়ের হাঁড়ি ভেঙ্গে ফেলে
খেলুক কোন নীলমনি .. 
গোপাল কে দড়ি বেঁধে রাখিস নে
ছেড়ে দে মা জননী ..
ছেড়ে দে মা জননী।। 

দেখ মুখে চোখে দই মেখে 
তাকিয়ে আছে কিভাবে,
কিছু যেন জানেনা সে
শান্ত সে কত স্বভাবে,
শান্ত সে কত স্বভাবে।

ও যশোদা মা .. 
ও যশোদা মা ..
ওই দুষ্টুটা কে সাজা দিয়ে 
লুকিয়ে কাঁদিস না ..
লুকিয়ে কাঁদিস না,
ওই দুষ্টুটা কে সাজা দিয়ে 
লুকিয়ে কাঁদিস না,
করবি কিরে মা বলে সে ডাকে যদি এখনি ..

গোপাল কে দড়ি বেঁধে রাখিস নে
ছেড়ে দে মা জননী,
মাখন চুরি করুক গোপাল
মাখন চুরি করুক গোপাল,
চুরি করে খাক্ ননী ..
গোপাল কে দড়ি বেঁধে রাখিস নে
ছেড়ে দে মা জননী ..
ছেড়ে দে মা জননী।। 


22

খোল খোল খোল গো দুয়ার।
নীল ছাপিয়া এল চাঁদের জোয়ার।।
সঙ্কেত-বাঁশরি বনে বনে বাজে
মনে মনে বাজে।
সজিয়াছে ধরণী অভিসার-সাজে।
নাগর-দোলায় দুলে সাগর পাথার।।
জেগে ওঠে কাননে ডেকে ওঠে পাখি
চোখ গেল, চোখ গেল, চোখ গেল!
অসহ রূপের দাহে ঝলসি’ গেল আঁখি,
চোখ গেল, চোখ গেল, চোখ গেল!
ঘুমন্ত যৌবন, তনু মন, জাগো!
সুন্দরী, সুন্দর-পরশন মাগো।
চল বিরহিণী অভিসারে বঁধুয়ার।।


23


তোরা দেখে যা আমিনা মায়ের কোলে
মধু পূর্ণিমারি সেথা চাঁদ দোলে
যেন ঊষার কোলে রাঙা-রবি দোলে।।

কূল মখ্‌লুকে আজি ধ্বনি ওঠে, কে এলো ঐ
কলেমা শাহাদাতের্‌ বাণী ঠোঁটে, কে এলা ঐ
খোদার জ্যোতি পেশানিতে ফোটে, কে এলো ঐ
আকাশ-গ্রহ-তারা পড়ে লুটে, কে এলা ঐ
পড়ে দরুদ ফেরেশ্‌তা, বেহেশ্‌তে সব দুয়ার খোলে।।

মানুষে মানুষের অধিকার দিল যে-জন
‘এক আল্লাহ্‌ ছাড়া প্রভু নাই’ কহিল যে-জন,
মানুষের লাগি’ চির-দীন্‌ বেশ ধরিল যে-জন
বাদশা ফকিরে এক শামিল করিল যে-জন
এলো ধরায় ধরা দিতে সেই সে নবী
ব্যথিত-মানবের ধ্যানের ছবি
আজি মাতিল বিশ্ব-নিখিল্‌ মুক্তি-কলোরোলে।।


24


কে বিদেশি বন-উদাসী'
বাঁশের বাঁশি বাজাও বনে।
সুর-সোহাগে তন্দ্রা লাগে
কুসুম-বাগের গুল-বদনে।।
ঝিমিয়ে আসে ভোমরা-পাখা
যুথীর চোখে আবেশ মাখা
কাতর ঘুমে চাঁদিমা রাকা
ভোর গগনের দর-দালানে
দর-দালানে ভোর গগনে।।
লজ্জাবতীর লুলিত লতায়
শিহর লাগে পুলক-ব্যথায়
মালিকা সম বঁধুরে জড়ায়
বালিকা-বঁধু সুখ-স্বপনে।।
বৃথাই গাঁথি কথার মালা
লুকাস কবি বুকের জ্বালা,
কাঁদে নিরালা বনশিওয়ালা
তোরি উতলা বিরহী মনে।।


25


ওগো পূজার থালায় আছে আমার ব্যথার শতদল।
হে দেবতা রাখ সেথা তোমার পদতল।।
নিবেদনের কুসুম সহ
লহ হে নাথ, আমায় লহ
যে আগুনে আমায় দহ সেই আগুনে
আরতি-দীপ জ্বেলেছি উজল।।
যে নয়নের জ্যোতি নিলে কাঁদিয়ে পলে পলে,
মঙ্গল-ঘট ভরেছি নাথ, সেই নয়নের জলে।
যে চরণে করো আঘাত
প্রণাম লহ সেই পায়ে নাথ
রিক্ত তুমি করলে যে হাত, হে দেবতা!
লও সে হাতে অর্ঘ্য-সুমঙ্গল।।



Post a Comment

0 Comments